শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ১২:০০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ফতুল্লায় ধর্ষণে বাধা দেয়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতাকে চারতলা থেকে ফেলে হত্যাচেষ্টা নারায়ণগঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার আবুল কালাম আজাদ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে আমারগো  আবারও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। -ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি টিটু যুবদল নেতা টিপুর দিকনির্দেশনা জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া আ’লীগ দোসরদের সংঘবদ্ধ হামলায় আহত ৪, আতঙ্কে এলাকাবাসী ফতুল্লা ইউনিয়ন যুবদল নেতা মিঠুর নেতৃত্বে একটি বিশাল মিছিল ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবো না : মামুন মাহমুদ ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবের আহবায়ক কমিটি গঠন ফতুল্লায় চেম্বার নেতৃবৃন্দের লিফলেট বিতরণ ফতুল্লা সস্তাপুরে কাস্টমস কর্মকর্তা মারফের বিরুদ্ধে মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ঝাড়ু মিছিল

কুতুবপুরে রোকন মেম্বারকে নিয়ে তোলপাড়

নিউজটি শেয়ার করুন:

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুতুবপুর ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার রোকন উদ্দিন কোন দলের সমর্থক? এমন প্রশ্ন এখন কুতুবপুরের আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতাকর্মীদের। তবে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সরকারের এক মন্ত্রীর হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন এমন খবর সর্বত্র চাউর হলেও বিষয়টি নিয়ে ধুম্রজাল  রয়েই গেছে। কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং থানা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মনিরুল আলম সেন্টর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত রোকন উদ্দিন মেম্বার। চেয়ারম্যান সেন্টুর কাছের লোক হিসেবেই তিনি পুরো কুতুবপুর জুড়ে রাম রাজত্ব কায়েম করেছেন। ভুমি জাল-জালিয়াতি, মাদক ব্যবসাসহ রয়েছে নানা অভিযোগ। কুতুবপুর ইউপি সদস্য রোকন উদ্দিনকে নিয়ে একটি  সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিএনপি থেকে পদত্যাগ না  বহিষ্কার এটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হত্যা,মাদক ব্যবসার বিষয়ে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই না জানলেও ভুমি জাল- জালিয়াতির কথা কারোরই অজানা নয়।

স্থানীয় সূত্রমতে, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে স্থানীয় এমপির উপস্থিতিতে এক মন্ত্রীর হাতে নৌকা তুলে দেওয়ার পর থেকে নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে জাহির করে যাচ্ছেন তিনি। অথচ এখনও কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র ৬ নং ওয়ার্ড কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। তাকে এখনও একনামে সবাই চেনে বিএনপি’র রোকন হিসেবেই।

সূত্রমতে, রোকনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা, খুনের অভিযোগ রয়েছে একাধিক। তৎকালীন সময়ের প্রভাবশালী ছাত্রলীগ নেতা শফিকুর রহমান মেছের হত্যাকাণ্ডে রোকনের সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। মেছের হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামীও এই রোকন। এছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর বর্বরতা, নির্যাতন, মারধোরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের একাধিক সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে কুতুবপুরসহ গোটা ফতুল্লায় শুরু হয় তোলপাড়।

জানা যায়, রোকনের অপকর্মের আদ্যপান্ত প্রকাশিত হওয়ার পরে বেরিয়ে আসছে তার থলের বেড়াল। এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুর সাথে আতাত করে আলমগীর ভুইয়ার যোগসাজসে  রোকন উদ্দিন কুতুবপুরে বিশেষ করে তার নির্বাচিত এলাকা সহ আশপাশ এলাকায় একক  রাজত্ব কায়েম করেছেন। শত অন্যায়-অবিচার, জুলুমের পরেই এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।  তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই টর্চার সেলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগও আছে তাদের বিরুদ্ধে। আর এই জুজুর ভয় দেখিয়েই পুরো কুতুবপুরে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছে ভয়ঙ্কর এই সিন্ডিকেট।

সূত্রমতে, বিএনপি শাসনামলে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস, জবরদখলসহ অসংখ্য অপকর্ম করেন রোকন।সে সময় রোকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে টিন চুরি করার ও অভিযোগ উঠেছিলো। দলের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ওই সময়ে ক্ষমতার চূড়ায় উঠে যান রোকন।

পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেও ধূর্ত রোকনের অসুবিধা হয়নি। বিএনপি’র পদধারী নেতা হয়েও আওয়ামী লীগের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন এবং আতাত অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে বিএনপি’র ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ না করেই ২০১৭ সালে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। এনিয়ে ওই সময়ে পত্রপত্রিকায় ব্যাপক লেখালেখি হয়। ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি লুতফর রহমান খোকা ও সাধারণ সম্পাদক তাহের মোল্লা ওই সময়ে নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন।

রোকনের বিষয়ে  মুঠোফোনে খোকা বলেন, ‘রোকন বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেননি। এখন কেউ কারো খবর রাখি না। সাধারণ সম্পাদকের কাছে কিছু জমা দিয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। আমি কিছু জানি না।’

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক তাহের মোল্লা মুঠোফোনে বলেন, ‘রোকন আওয়ামী লীগে যোগদানের আগেই তাকে বিএনপি থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। তবে ইউনিয়ন সভাপতিকে অবগত করা ছাড়া কীভাবে ওয়ার্ড কমিটির সভাপতিকে বহিস্কার করা হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তাহের মোল্লা দায় চাপান লুৎফর রহমান খোকার প্রতি। অপর দিকে তাহের বলেন, ‘সভাপতি না জানলে কেমনে কই! সভাপতির আদেশ ছাড়া তো বহিস্কার হয় না, বুঝেন না! সে কেন বলছে যে সে জানে না, সেইটা তাকে জিজ্ঞেস করেন। উনার সাথে (খোকা) আমাদের অনেক গ্যাপ আছে। উনি সময় কম দেয় রাজনীতিতে।’

এসময় তাহের মোল্লার কাছে বহিস্কার আদেশ দেখতে চাইলে তিনি ঢাকার বাহিরে আছেন জানিয়ে কৌশলে এড়িয়ে যান। তবে বিএনপি’র গঠনতন্ত্র বলছে, ইউনিয়ন সভাপতিকে অবহিতকরণ ও দলীয় প্যাডে তার স্বাক্ষর ব্যতীত ওয়ার্ড সভাপতির বহিস্কার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।  এব্যাপারে রোকন উদ্দিন মেম্বার জানান, আমি সাংসদ শামীম ওসমানের আহবানে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেই আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছি। আমাকে মেছর হত্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে এছাড়া আমার বিরুদ্ধে যে ভূমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে তা সম্পন্ন মিথ্যা।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন


Dhaka, Bangladesh
শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫
৬ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৭
ওয়াক্তসময়
সুবহে সাদিকভোর ৪:২২
সূর্যোদয়ভোর ৫:৩৯
যোহরদুপুর ১১:৫৯
আছরবিকাল ৩:২৭
মাগরিবসন্ধ্যা ৬:১৯
এশা রাত ৭:৩৭

নামাজের সময় সূচী

© নারায়ণগঞ্জের আলো ২৪
Design & Developed BY M Host BD